ফরেক্সে একটি মুদ্রা কেনা হয় আরেকটি বেচা হয়। তাই এখানে দুটি মুদ্রার কারবার হচ্ছে। মুদ্রার এ বেচাকেনার কাজ করবে ব্রোকার বা ডিলার, একটি মুদ্রাজোড়ের বা কারেন্সি পেয়ারের ওপর ভিত্তি করে। ব্যাপারটা আরেকটু ব্যাখ্যা করা যাক, শেয়ার মার্কেটের নিয়ম হচ্ছে যেকোনো শেয়ারের মূল্য সে দেশের মুদ্রার বিপরীতে নির্ধারিত হবে। যেমন- বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে কোনো শেয়ারের মূল্য ধরা হয় টাকায়। কিন্তু ফরেক্স মার্কেটে এভাবে কোনো দেশের মুদ্রা বা কারেন্সির মান নির্ধারণ অসম্ভব। শুধু ইউরো বা ডলারের কোনো মূল্য থাকতে পারে না। যেমন- ১ ডলার দিয়ে ৭৪ বাংলাদেশী টাকা পাওয়া যায়। একইভাবে ১ ডলার দিয়ে মাত্র ০.৬৯ ইউরো অথবা ০.৬১ ব্রিটিশ পাউন্ড পাওয়া সম্ভব। আবার যদি ভারতের রুপির কথা ধরা হয়, তাহলে ১ ডলার দিয়ে আপনি ৪৫ রুপি পাবেন। তাহলে ডলারের মূল্য আসলে কোনটি? বিভিন্ন দেশের মানুষই তো ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড করে, কোন দামে তারা ডলার কিনবে? এ জন্যই ফরেক্স মার্কেটে সবকিছু কারেন্সি পেয়ারের মাধ্যমে ট্রেড হয়। মার্কিন ডলার ও ইউরোর মুদ্রাজোড় হচ্ছে USD/EUR এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ও জাপানি ইয়েনের জোড় হচ্ছে GBP/JPY।
ফরেক্সের বাজারে তাই মুদ্রাজোড়ের ভূমিকা অনেক এবং বেচাকেনার সময় যেকোনো জোড়কে বেছে নিতে পারেন। মুদ্রার মাঝে এ প্রতিযোগিতাকে টাগ অব ওয়ারের সাথে তুলনা করতে পারেন। যে কারেন্সি যত বেশি শক্তিশালী হবে অপর পক্ষের কারেন্সি তত দুর্বল।
ফরেক্সে কারেন্সির এ জোড়কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হচ্ছে :
০১. প্রধান মুদ্রাজোড় (মেজর কারেন্সি পেয়ার);
০২. গৌণ মুদ্রাজোড় (মাইনর/ক্রস-কারেন্সি পেয়ার);
০৩. এক্সোটিক মুদ্রাজোড় (এক্সোটিক পেয়ার)।
প্রধান মুদ্রাজোড় :
প্রধান মুদ্রাজোড়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাতে মার্কিন ডলারের উপস্থিতি। মার্কিন ডলারের সাথে অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত শক্তিশালী মুদ্রাজোড়কেই বলা হয় প্রধান মুদ্রাজোড়। এখানে প্রধান কারেন্সি পেয়ারগুলোর নাম, দেশ ও ফরেক্সের ভাষায় তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হলো-
গৌণ মুদ্রাজোড় :
মার্কিন ডলার বাদে অন্যান্য প্রধান কারেন্সির মাঝে যে জোড় বা ক্রস হয় সেগুলোকে গৌণ বা অপ্রধান মুদ্রাজোড় বলে। ইংরেজিতে এদের ক্রস কারেন্সি পেয়ার বলা হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রস পেয়ারগুলো সাধারণত ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, জাপানি ইয়েনের মাঝে দেখা যায়। ইউরোকে প্রথমে বা বেস কারেন্সি হিসেবে রেখে তার সাথে অন্য কোনো মুদ্রার ক্রস করা হলে বা জোড়া বানানো হলে তাকে উইরো ক্রস বলে। এভাবেই ইয়েন ক্রস, পাউন্ড ক্রস ও অন্যান্য ক্রস হতে পারে। ইয়েন ক্রসের ক্ষেত্রে ইউরো/ইয়েন এবং পাউন্ড/ইয়েন মুদ্রাজোড়ের ডাকনাম যথাক্রমে ইয়ুপ্পি ও গুপ্পি। নিচের ছকে ইউরো ক্রসের উদাহরণ তুলে ধরা হলো-
এক্সোটিক পেয়ার :
এক্সোটিক পেয়ারের বেলায় একটি প্রধান কারেন্সির সাথে কম শক্তিশালী বা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকা কোনো কারেন্সির সাথে যে পেয়ার বা জোড় করা হয় তাকে এক্সোটিক পেয়ার বলে। কম শক্তিশালী কারেন্সির মধ্যে রয়েছে মেক্সিকোর পেসো, ডেনমার্কের ক্রোন, থাইল্যান্ডের বাথ, বাংলাদেশের টাকা, ভারতের রুপি ইত্যাদি। জোড় বানানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় প্রধান কারেন্সি হিসেবে মার্কিন ডলার থাকে। এ ধরনের পেয়ার দিয়ে তেমন একটা ট্রেড হয় না। প্রধান কারেন্সি পেয়ার ও ক্রস পেয়ারগুলো নিয়েই বেশি মাতামাতি হয়ে থাকে। নিচে কিছু এক্সোটিক পেয়ারের উদাহরণ দেয়া হলো-









1 comments:
ফরেক্স মার্কেটে সাধারণত ইউএসডি - মার্কিন কারেন্সি, ইউরো - ব্রিটিশ পাউন্ড, জাপানি ইয়েন এই তিন পেয়ার বেশি ব্যবহৃত হয়। এমনকি নতুন পুরাতন ট্রেডাররা এই তিনটি করেন্সি ব্যবহার করে বেশ কিছু পেয়ারে ট্রেড করে থাকে। আমিও EURUSD, USDJPY, EURJPY এই তিন পেয়ার OctaFX ব্রোকারে ট্রেড করি থাকি। এই ব্রোকরের আমি ট্রেড শুরু করেছিলাম একটা ডেমো কন্টেস্টে ৩০০ ডলার লাভ করে। তার পর থেকে, সেই বোনাস দিয়ে লাইভ একাউন্ট করে গত মাস যাবৎ লাইভ ট্রেডিং করছি। বেশ ভালই চলছে ট্রেডিং আমার।
Post a Comment